জবি শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা অব্যাহত: ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে

খোলা কলাম: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০১৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
jnu-student-movement

নতুন হল নির্মাণ ও পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তরের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আজও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
 
আজ যখন শিক্ষার্থীরা তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করার জন্য ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে, তখন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ  শিক্ষার্থীদের  ওপর নজির বিহীনভাবে হামলা চালায়। এই হামলায় দেড় শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়। তাদের মধ্যে হুমায়ুন, নাজমুল হাসান, শাহিন, মনিরুজ্জামান রিপন, মিরাজ, তারেক হাসান, ফয়সাল খান গুরুতর আহত হয়। 
 
গতকাল এক সাংবাদিক কে পেটানোর ফলে সাংবাদিক সমিতি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সকল ইতিবাচক নিউজ বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অফিস ভাংচুর করে। প্রতিদিনের মতো আজো মাইক কেড়ে নেয়, মোবাইল ও ব্যানার কেড়ে নেয়। 
 
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মঘট পালনকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষমতাশীল দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ। 
গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী ও মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হেসেন নান্নু,  গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বাসদ(মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াসিন মিঞা ও সন্তোষ গুপ্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ সকাল থেকে হলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যখন তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শরিফ ও সধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এর নেতৃত্বে ছত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হমলা করে। সরকার ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসন করছে, ন্যূনতম গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির তোয়াক্কা তারা করছেনা। যার ফলশ্রুতিতে সরকারী ছাত্র সংগঠন আজ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালাতে সাহস পাচ্ছে। সরকার যদি তার ছাত্র সংগঠনকে এখনই নিয়ন্ত্রণ না করে তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ।’
 
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবি করেন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে আবাসিক হল নির্মাণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারে প্রতি জোর দাবি জানান।