মুনাফার লোভে মধ্যযুগীয় পোশাক বোরকা ও হিজাবকে নতুন করে সামনে আনছে পুঁজিপতি ও কর্পোরেট চক্র

ডেস্ক রিপোর্ট: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
hezab

মুনাফার লোভে মধ্যযুগীয় পোশাক বোরকা ও  হিজাবকে নতুন করে সামনে আনছে  পুঁজিপতি ও কর্পোরেট চক্র।   


সম্প্রতি ইউরোপের কয়েকটি দেশে বোরকা ও হিজাব  নিষিদ্ধ করা হলে বিষয়টি  পুঁজিপতিরদের নজর কাড়ে।  ফলে  বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে  মধ্যযুগীয় এই পোশাকগুলো।


এরপরই বিশ্বের নামী সব ব্র্যান্ডগুলো বিপননে নেমে পড়ে নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে ।  গেল বছরের শেষ দিকে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে প্রথমবারের মতো মধ্যযুগীয় হিজাব পরে ক্যাটওয়াকে অংশ নিয়েছেন নামী মডেলরা। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউউয়র্কের ওই পোশাক প্রদর্শনী মধ্যযুগীয় বোরকা ও হিজাবের বাজারকে অনেকটাই উন্মুক্ত করবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এশিয়া ও আফ্রিকার ছাড়াও পশ্চিমা বিশ্বেও এখন হিজাব ও বোরকার বাজার রমরমা। মুসলিম দেশসহ পশ্চিমা বিশ্বে হিজাব ও বোরকার   প্রায় ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বাজার তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

 সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে সামন্ত ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরপরই রেঁনেসার মধ্য দিয়ে  সামাজিক ভাবে নারীদের মধ্যযুগীয় এই পর্দা প্রথার বিলুপ্ত ঘটে বিশ্বব্যাপি। সেই সাথে মধ্যযুগীয় এই পোশাকগুলোও সামাজিকভাবে তার গ্রহনযোগ্যতা হারায়। পরিণত হয় প্রতিক্রয়াশীল পোশাক হিসাবে। সেই প্রতিক্রয়াশীল  মধ্যযুগীয় পোশাক বোরকা ও  হিজাবকে আবার পুঁজির টানে নতুন করে সামনে আনছে পুঁজিপতি ও কর্পোরেট চক্র, যা সমাজ প্রগতির অন্তরায় হয়ে উঠতে পারে।এবং এটিকে  একটি নেতিবাচক দিক হিসেবেই মনে করছেন সমাজ বিজ্ঞানীরা ।


এখানে উল্লেখ্য শুধু বাংলাদেশেই রয়েছে এর হাজার কোটি টাকার বাজার।  বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, দেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বোরকা ও হিজাব পরিধান করছে। এর মধ্যে গ্রামীণ নারীদের প্রায় ৫০ শতাংশ পোশাকটি পরছেন। শহুরে  নারীদের মধ্যে এ হার কিছুটা কম। তবে তা ৩০ শতাংশের নিচে নয়।