বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশের গণতন্ত্রের চর্চাঃ সংসদে কিল, ঘুষি, মারামারি

সম্পাদকীয়: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০১৫, ০৬:০৯ অপরাহ্ন
parliamentary-democracy

ধনতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থার সংসদ সম্বন্ধে রুশ বিপ্লবের নেতা কমরেড লেনিন বলেছিলেন- “প্রভু শ্রেণীর কোন লোকটি পার্লামেন্টে  জনগণকে দমিত ও দলিত করবে কয়েক বছরে একবার করে তা স্থির করা, এটাই হলো বুর্জোয়া পার্লামেন্ট প্রথার আসল মর্মার্থ”।

সাম্প্রতিককালের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংসদগুলো সেই সত্যকেই বারবার প্রমাণিত করছে। জনগণের সমস্যার সমাধান  নিয়ে আলোচনা তো দূরের কথা  সংসদের সদস্যরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করে সংসদে বসে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিকক রাষ্ট বলে দাবিদার   ভারতের সংসদে গতকাল মাংস খাওয়া নিয়ে এক সাসংদকে ব্যাপক মারধর করেছে বিজেপি সাংসদরা। ঘটনাটি ঘটেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত  কাশ্মিরের সংসদে। স্বতন্ত্র বিধায়ক শেখ আবদুল রশিদকে বিধানসভা কক্ষেই কিল-ঘুষি লাথি মারতে থাকেন উগ্র সাম্প্রদায়িক বিজেপি সাংসদরা। ইঞ্জিনিয়ার রশিদ অভিযোগ করে বলেছেন, “বিজেপি  বিধায়করা আমাকে শুধু চড়ই মারেননি বরং লাথি, ঘুষিও  মেরেছেন। তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে”।  
 

এখানেই শেষ নয়, এর আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় সংসদ  সদস্যরা খেলনা পিস্তল নিয়ে নিয়ে ঢুকে  পড়ে সংসদে। যাতে ব্যাপক হট্টগোল ও হাস্যকর পরিস্থিতির তৈরি হয়।     
 

শুধু ভারত নয় সম্প্রতি একই রকম মারামারির ঘটনা ঘটেছে শান্তিপ্রিয় বলে দাবিদার জাপানের   সংসদেও। সেখানে সংবিধান প্রনয়নকে কেন্দ্র করে আলোচনার বদলে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে দু পক্ষের সংসদ সদস্যরা।

প্রকৃতপক্ষে বুর্জোয়া ব্যবস্থায় বছর বছর কোটি কোটি টাকার মচ্ছব করে নির্বাচনের মাধ্যমে যে   পার্লামেন্ট তৈরী করা হয় তা মূলত জনগণের কোনো কল্যাণেই আসে না। এরকম প্রেক্ষিতে জনগণের মুক্তির জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার নতুন পদ্ধতি বেছে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।