শুভ জন্মদিন কমরেড লেনিন

সম্পাদকীয়: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০১৫, ০১:১৯ অপরাহ্ন
_postcard

আজ ২২ শে এপ্রিল। বিশ্বের শ্রমজীবীদের মহান নেতা, মার্ক্স ও এঙ্গেলসের বৈপ্লবিক মতবাদের যোগ্য উত্তরসুরী, সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির সংগঠক, সোভিয়েত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ও শোষণমুক্তির সংগ্রামের যোদ্ধা ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের জন্মদিন।

লেনিন ছিলেন অগণিত শোষিত, নিপীড়িত, অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের অগ্রনায়ক। তিনি সারাজীবন স্বপ্ন দেখে গেছেন শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের। এবং অক্লান্ত পরিশ্রম ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়ন।

লেনিন জন্মগ্রহণ করেন ১৮৭০ সালে। ১৮৮৬ সালে তার বাবা মারা যান। ১৮৮৭ সালের মার্চে পিটার্সবুর্গে জার তৃতীয় আলেক্সান্দরকে হত্যার চক্রান্তে অংশ নেবার জন্য গ্রেফতার হন তার বড় ভাই আলেক্সান্দর উলিয়ানভ। সে বছরই তার ফাঁসি হয়। বড় ভাইয়ের ফাঁসি তরুন ভ্লাদিমিরকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে। বিপ্লবী সংগ্রামে নিজের জীবন বাজি রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন লেনিন। তবে বড়ভাই ও তার কমরেডদের প্রতি শ্রদ্ধায় নত হলেও লেনিন তাদের পথকে সঠিক বলে মানতে পারেননি। তার ধারনা ছিলো জার সরকারের একজন প্রতিনিধি বা স্বয়ং জারকে হত্যার মাধ্যমে স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামটা ভুল, তাদের লক্ষ্যসিদ্ধি হবে না।

মেহনতীদের মুক্তির জন্য লেনিন অন্য পথের সন্ধন শুরু করলেন। নিজেকে বিপ্লবী কর্মকান্ডের জন্য প্রস্তুত করে তুললেন। ১৮৮৭ সালের ডিসেম্বরের গোড়ায় ছাত্র সভায় অংশগ্রহনের জন্য লেনিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার হন। লেনিন পরে গল্প করেছিলেন। জেলখানায় তাকে যে দারোগাটি নিয়ে যায় সে তাঁকে শিক্ষাদানের ভঙ্গিতে বলেছিলো “হৈ হাঙ্গামায় কী আর হবে ছোকরা। শেষটা তো এই দেয়াল’ লেনিন বলেছিলেন ‘দেয়াল, তবে ঘুণে ধরা, ধাক্কা দিলেই ভেঙ্গে পড়বে!” এই ছিলো লেনিনের মানসিকতা।

১৮৯৭ সালে তাকে বিপ্লবী কর্মকান্ডের জন্য নির্বাসনের শাস্তি দেওয়া হয়। এখানে শুরুতে লেনিনের অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু তিনি নিজেকে বিপ্লবী কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখেননি। এখানে তিনি প্রচুর পড়াশোনা করেন। সাইবেরিয়ার সাধারণ শ্রমজীবীদের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠে। তিনি তাদের বিভিন্ন মামলায় সাহায্য করেন। এখানেই তিনি ‘রাশিয়ায় পুঁজিবাদের বিকাশ’ বইটি লিখে শেষ করেন। এটি ছিলো রাশিয়ার অর্থনৈতিক বিকাশ নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা , যা ছিলো মার্ক্সের ‘পুঁজি’ বইটির পূর্বানুসরণ।

ব্যক্তিজীবনে লেনিন খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। দুমা প্রতিনিধি ম.ক. মুরোনভ লেনিনের সাথে দেখা করে এসে বলেছেন “লেনিন আর ক্রুপস্কায়া থাকতেন দুই কামরার একটি ছোটো ফ্ল্যাটে। সাধারণ চেয়ার টেবিল, দুটি লোহার খাট, বিনা বাহারের একটি পোষাকের আলমারি – আসবাব বলতে এই। কিন্তু সমস্ত ফাঁকা জায়গা ভরা বই, পত্রিকা, খবরের কাগজে – তাকে, জানলার পৈঠায়, মেজের ওপর পরিপাটি করে গোছানো স্তুপে”।

১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারী বিপ্লবের পর ৩রা এপ্রিল লেনিন দশ বছর পর রাশিয়ার এসে পৌছলেন। ৪ই এপ্রিল বলশৈভিকদের সভায় লেনিন বিপ্লবী প্রলেতারিয়েতের কর্তব্য নিয়ে থিসিস পেশ করেন, ইতিহাসে এটি এপ্রিল থিসিস নামে পরিচিত। এই থিসিস ছিলো নতুন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে পার্টির সঠিক নীতিনির্ধারনের পথপ্রদর্শক।  

অবশেষে ১৯১৭ সালে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক পার্টির পরিচালিত বিপ্লব জয় লাভ করে। ক্ষমতা আসে শ্রমিকদের হাতে। লেনিন হন পৃথিবীর প্রথম শ্রমিক শ্রেনীর রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়ক। তবে লেনিন প্রথাগত রাষ্ট্র নায়ক ছিলেন না। তিনি ছিলেন মেহনতিদের সত্যিকারের বন্ধু, তাদের সহযোদ্ধা, তাদের ভাই। শ্রমিক শ্রেনীর এই শ্রেষ্ঠ সহযোদ্ধাকে জন্মদিনে হাজার হাজার লাল সালাম।