সে আওয়াজ একদিন আমাদের সব নিস্তব্ধতাকে ভেঙ্গে ফেলবে

সম্পাদকীয়: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ০১ মে ২০১৫, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
may-day-2015

উনিশ শতকে শিল্প বিপ্লব মানব সভ্যাতার চাকাকে খূব দ্রুত গতিতে পরিবর্তন করে ফেলে।  উৎপাদনের বিপুলতা সমাজের খোলনলচে পাল্টে দেয়। কিন্তু উৎপাদনের এই বিপুল ঐশ্বর্য সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের জীবনে নিয়ে আসে কালো অন্ধকার।এর কারণ সভ্যাতার অমৃতের পাশাপাশি উঠে  আসা বিষাক্ত ব্যবস্থা মুনাফা। মুনাফার সর্বগ্রাসীতা সমাজের  সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে বেঁধে ফেলে  শ্রমদাসত্বে। শিল্প বিপ্লব ঐশ্বর্য এনে দেয় মালিককে আর বিষ হয়ে দাঁড়ায় শ্রমিকের জীবনে। ফুঁসে  উঠতে থাকে শ্রমজীবী মানুষ। এরই এক বিস্ফোরণ ঘটে ১৮৮৬ সালের ১লা মে' তে শিকাগো  শহরে।
 
১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে শ্রমিকরা কাজের সময় নির্দিষ্ট করা, মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশ উন্নত করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। আর রাষ্টীয় মদদে পুলিশ ও মালিকের গুন্ডাবাহিনী  গুলি চালায় শ্রমিকের উপর। ১০ জন শ্রমিক শহীদ হয়। পরবর্তীতে মিথ্যা অভিযোগে শ্রমিক  নেতা পার্সনস,   স্পাইজ, ফিশার, এন্জেলকে ফাঁসির দন্ডে হত্যা করা হয়। তিন বছর পর  ১৮৮৯  সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের মহান নেতা কমরেড ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের প্রস্তাব অনুযায়ী গোটা দুনিয়ায় সব শ্রমিক আর মেহনতি মানুষ এ দিনটিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। মে দিবস তাই শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রাম ও   সংহতির প্রতীক।

 মে দিবস মুনাফার যাঁতাকল ভেঙ্গে ফেলে বেরিয়ে আসার দিন, মে দিবস শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ের দিন।  

বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে মে দিবস। রাষ্ট্রপ্রধানরা বাণী দিয়েছে, সরকারী ছুটি পালিত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকতার সবই হচ্ছে সমান তালে। কোনো কমতি নেই। কিন্তু শ্রমিকের অধিকার আজও প্রতিষ্ঠিত হয় নি, বরং  বেড়েছে মালিকের পেষণ।

 অসহায় শ্রমিক আজো মরছে। প্রতিদিন মরছে।  না খেতে পেয়ে মরছে। মাটি চাপায় মরছে। আগুনে পুড়ে মরছে। কিন্তু বাড়ছে মালিকের জৌলুস। বণিকজোটে্র দাপট আজ সমাজ রাষ্ট্রের   সবর্ত্র। শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা দূরে থাক রাষ্ট্র তাকে খর্ব করতেই মরিয়া। আর শ্রমিকের প্রতিবাদ  দমনের জন্য গড়ছে নিত্য নতুন বাহিনী।      

 হে মার্কেটে  শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয় আগস্ট স্পাইজকে। ফাঁসির মঞ্চে  আগস্ট স্পাইজ বলেছিলেন, "আজ আমাদের এই নি:শব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা  অধিক শক্তিশালী হবে"। শ্রমিকের  সেই আওয়াজ একদিন এদেশেও সব নিস্তব্ধতাকে ভেঙ্গে ফেলবে।  এটা নিশ্চিত।