আজ চে গুয়েভারার জন্মদিন : পুঁজিবাদের শিকল ছিঁড়ে সাম্যের সমাজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবেই

শিল্প ও সাহিত্য: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০১৫, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
che-birthday-editorial

১৪ই জুন মহান বিপ্লবীর চে গুয়েভারার জন্মদিন। জন্মেছিলেন আর্জেন্টিনায়। তখন বড়ই   ক্রান্তিকাল। সমগ্র ল্যাটিন আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদীদের দখলে। সময়ের সেই অস্থিরতা চঞ্চল করে তোলে তাকেও। মুক্তি চাই। মুক্তি চাই শোষণ থেকে, মুক্তি চাই সমগ্র মানবের। সেই মুক্তির পথ সংস্কার নয় বিপ্লব। মুক্তির পথ মার্কসবাদ। পুঁজিবাদের উচ্ছেদ। সে পথেই পা বাড়ালেন চে। আমৃত্যু সে পথেই থেকেছেন।

কিউবার বিপ্লবী সংগ্রামের সশস্ত্র লড়াইয়ে চে ছিলেন অগ্রগামী নায়ক। ত্বাত্তিকভাবে চে ধারণ করতেন বিশ্ববিপ্লবের ধারণা। মনে করতেন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তেই যতদিন পর্যন্ত শোষণ থাকবে ততদিনই লড়তে হবে বিপ্লবীকে। সেই তাত্ত্বিক অবস্থান থেকেই কিউবার বিপ্লব সম্পন্ন করে ছুটে গেলেন বলিভিয়ায়। এই নিয়ে  মার্কসবাদী মহলে নানা মত রয়েছে। বলেভিয়ায় বিপ্লব সম্পন্ন করতে পারেন নি চে। তবে মনে রাখতে হবে আজকে পুরো ল্যাটিন আমেরিকায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার অন্যতম রূপকার তিনিই। তার দেখানো পথেই আজ বলিভিয়াও মুক্তির জন্য  লড়ছে।

সমস্ত বিপ্লবীর মত চে’কেও প্রচণ্ড ভয় পেত সাম্রাজ্যবাদীরা। তাই তাকে প্রতিহত করতে কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করে নি তার। কিউবার বিপ্লবের পর চে-ফিদেল সহ কিউবার বিপ্লবীদের সন্ত্রাসী বলে প্রচার করার চেষ্টা করে মার্কিনসহ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো। কিন্তু সেই প্রচার ধোপে টেকেনি। তাই আনা হয় নতুন কৌশল। এবং সেটা চে’র মৃত্যুর পরে। যেটা এখনও চলছে পুরোদমে। তা  হলো তার বিপ্লবী চরিত্রকে আড়াল করে তাকে ফ্যাশন আইকন হিসেবে প্রচার করা। চে’কে নিয়ে রমরমা ব্যবসা এখন। আজ চে’র ছবি বুকে, কাঁধে, মগে, জগে লাগিয়ে যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তার মুখ্য উদ্দেশ্য চে’র বিপ্লবী চরিত্রকে ধ্বংস করা। আজকের তরুণরা অনেকেই চে গুয়েভারাকে চেনে, কিন্তু চেনে না তার তত্ত্ব। বোঝে না তার লড়াই। এটাইতো চায় পুঁজিবাদী শক্তি।

তাই আজকের সত্যিকার বিপ্লবীদের অনেকগুলো দায়িত্বের মধ্যে এটাও একটা বড় দায়িত্ব-চে’কে নিয়ে এই ব্যবসায়ী প্রচারণার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

যে শোষণহীন, মুনাফামুক্ত সাম্যের বিশ্বের স্বপ্ন দেখতেন চে, সেই বিশ্ব এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখনো চলছে পুঁজির হিংস্রতা, দখল, লুন্ঠণ। কিন্তু সত্য হচ্ছে লড়াই কখনো থেমে থাকেনা। যে লড়াই চে’ শুরু করেছিলেন ল্যাটিন আমেরিকায় সেই ল্যাটিন আমেরিকা এখন আগামীর সাম্য্রে স্বপ্ন  দেখাচ্ছে। এই লড়াই শক্তিশালী হচ্ছে এশিয়ায়, আফ্রিকায় এমনকি ইউরোপেও।
একদিন চে’ সহ সব বিপ্লবীদের স্বপ্ন পূরণ হবেই। পুঁজিবাদের শিকল ছিঁড়ে সাম্যের সমাজ আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। চে’র জন্মদিনে এই আমাদের শপথ- ‘বিজয় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও’।