আজ রক্তাক্ত ফুলবাড়ি দিবস

সম্পাদকীয়: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০১৫, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
fulbari_pc

আজ ফুলবাড়ি দিবস। ২০০৬ সালে এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে উত্তোলনরত কয়লা খনির বিরুদ্ধে প্রতিবাদরত সাধারণ মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রাষ্ট্রীয় পেটোয়া বাহিনী। তৎকালীন বিএনপি-জামাত সরকারের নির্দেশে বিডিআর ও পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৩ জন মানুষ। আহত হয় প্রায় ৩০০ জন। যাদের অনেকে আজও পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে।

 

ফুলবাড়ি কয়লা খনির চুক্তি হয়েছিলো এশিয়া এনার্জির সাথে। এশিয়া এনার্জি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর যত জায়গায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে সব জায়গাতেই পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এশিয়া এনার্জির এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাস্তুহারা হতো প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ। চাষের অনুপযুক্ত হয়ে পড়তো ফসলের জমি। নদীর পনি দূষিত হয়ে ছড়িয়ে পড়তো মাইলের পর মাইল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

এই জনস্বার্থবিরোধী প্রকল্পের বিরুদ্ধে “তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি”র নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে তোলে ফুলবাড়ির সাধারণ মানুষ। এশিয়া এনার্জি টাকাপয়সা দিয়ে আন্দোলনকারীদের বশ করতে চেয়েও ব্যর্থ হয়। ঘটনার দিন সমাবেশে জমায়েত হয় আদিবাসীসহ কয়েক হাজার স্থানীয় মানুষ। সমাবেশের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তির পরই বিনা উষ্কানিতে গুলি করা হয় মানুষের উপর। শহীদ হয় ৩ আন্দোলনকারী।

 

ফুলবাড়ির ক্ষত আজও শুকোয়নি। ফুলবাড়ির চেতনাকে ধারণ করে আজও আন্দোলন করে যাচ্ছে “তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি”। বিদেশী বেনিয়াদের হাত থেকে জাতীয় মূল্যবান সম্পদ রক্ষায় আজ ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের কোন বিকল্প নেই।