বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে রোগীদের হয়রানি বন্ধে আজ আইন পাস করতে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

আন্তর্জাতিক । ডেস্ক রিপোর্ট: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০১৭, ০২:৪১ অপরাহ্ন
new-health-act_-wb


বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে রোগীদের হয়রানি আটকাতে আজ, শুক্রবার  বিধান সভায়  একটি বিল পেশ করতে চলেছে  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। বিলে চিকিৎসায় গাফিলতির জন্য জরিমানা, এমনকী প্রয়োজনে  সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত  করার মতো কড়া বিধান থাকছে।

সম্প্রতি  ভারতের  স্বাস্থ্যব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো  হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় ফেরত পাঠানো এক রোগীর মৃত্যুর পর এই নিয়ে ব্যাপক  সমালোচোনা শুরু হয়।  সঞ্জয় রায় নামের মৃত ঐ ব্যাক্তির স্বজনরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।  পরিস্থিতি সামাল দিতে  বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলোর ইস্টার্ন রিজিয়নের ডিরেক্টর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ডাঃ রূপালী বসুকে।  

উল্লেখ্য চিকিৎসার বাড়তি খরচ, রোগী হেনস্থা ও হাসপাতালে ভাঙচুর আটকাতে ২০১০ সালের ২৯ জুলাই ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাবলিশমেন্টস (রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) বিল’ পাশ করিয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। সেই বিলে ছিল, টাকার অপেক্ষা না করে আপৎকালীন রোগীর চিকিৎসা করা বাধ্যতামূলক। বিধিভঙ্গকারী বেসরকারি হাসপাতালকে রোগীর পরিবারকে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধানও যুক্ত ছিল।

কিন্তু  সেই সময় বিরোধী  দলে থাকা মমতা ব্যানার্জী ও তার দল তৃণমূল কংগ্রেস সেই বিলের বিরোধীতা করে। এমনকি ঐ বিলের বিরুদ্ধে সিলেক্ট কমিটিতে ‘ডিসেন্ট নোট’ ও দিয়েছিল মমতার দল। তাদের  দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় আইন না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের ১৯৫০ সালের আইনেই কাজ চলুক। ফলে সেই আইনটি তখন আর বাস্তবায়ন  করা যায় নি। এখন পরিস্তিরিত্র চাপে  বাধ্য হয়ে আবার সেই পুরনো আইনকেই নতুন করে প্রণয়ন করতে বাধ্য হচ্ছে  মমতা ব্যানার্জী।

আগের বিলে ছিল, টাকার অপেক্ষা না করে আপৎকালীন রোগীর চিকিৎসা করা বাধ্যতামূলক। বিধিভঙ্গকারী বেসরকারি হাসপাতাল রোগীর পরিবারকে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে। নতুন বিলে অঙ্কটা ১০ লক্ষ হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করালে বা অতিরিক্ত ফি নিলে জরিমানা, প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের সংস্থান আগের বিলে ছিল। এখনও তা-ই আছে। এছাড়াও ২০১০ সালে বামফ্রন্ট আমলে যে আইন তৈরি হয়েছিল তার আদতে এই বিলে যাবতীয় দায়দায়িত্ব ছিল চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের মালিকের উপর বা পরিচালকমণ্ডলীর উপর।  চিকিৎসক যদি সেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক না হন তাহলে প্রত্যক্ষভাবে তাঁর কোনো দায় সে অর্থে এই আইনে ছিল না। ক্ষতিপূরণ বা জেল জরিমানা সবই মালিক বা ট্রাস্টের দায়িত্ব।

আগের বিলে ছিল, বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলার বিচার করবে ট্রাইবুন্যাল। এখন ট্রাইবুন্যালের বদলে কমিশন গড়ার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র- গণশক্তি ও আনন্দবাজার পত্রিকা