প্রাকৃতিক অঘটন আর রাষ্ট্রীয় অবহেলায় সর্বস্বান্ত হাওড়ের কৃষক

ডেস্ক রিপোর্ট: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০১৭, ০১:৪১ অপরাহ্ন
flood-at-sunamjang

প্রাকৃতিক অঘটন আর রাষ্ট্রীয় অবহেলায় বানের জলে ভেসে গেছে  হাওড় অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমির ধান। সেই সাথে সব হারিয়ে পথে বসেছে কৃষক। হাওড় অঞ্চল জুড়ে কৃষকের ঘরে এখন শুধু কান্না আর দুর্ভিক্ষের শঙ্কা।


গত এক সপ্তাহ ধরে চলা টানা অতি বৃষ্টিতে হাওড় রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ, সিলেট. মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জের ৭০ ভাগ বোরো ধান। এর মধ্যে সুনামগঞ্জেরই ৯০ ভাগ কৃষিজমি তলিয়ে গেছে।


বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার ১৯৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। হবিগঞ্জ শহর দিয়ে প্রবাহিত খোয়াই নদীর পানি বৃহস্পতিবার বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার রাত ৩টার দিকে ওই নদীর পানি ২৫০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। খোয়াই নদীর নিম্নাঞ্চল বানিয়াচং  উপজেলার হেলারকান্দি ও লাখাই উপজেলার ভরপুর্ণি এলাকায় বাঁধ উপচে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।


হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর জেলার ১ লাখ ১৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছিল। কিন্তু টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে ১৩ হাজার ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এর মাঝে বানিয়াচং উপজেলায় ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৯৫ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর কর্মকর্তারা জানান, জেলায় ২০ হাজার ৫০ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে।  ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।সব মিলিয়ে ইতিমধ্যে ২ লাখ ২৩ হাজার ৮২ হেক্টর বোরো জমির ধান সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।


আর কৃষকের এই সর্বনাশের জন্য মূলত দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও তাদের নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। সঠিক সময়ে বাঁধ না দেওয়ার কারণেই এই দুর্যোগ বলে জানিছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই যে ধান ঘরে ওঠার কথা ছিল সেই ধান চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা কৃষক। এমনকি ঘরের খাবারের চালটুকুও নেই কোনো কোনো কৃষক পরিবারের। তার সাথে যোগ হয়েছে ঋণের টাকা শোধ করার  চিন্তা।


এদিকে কৃষকের এমন সর্বনাশের জন্য দায়ী ঠিকাদারের শাস্তি ও সুনামগঞ্জকে দুর্যোগপূর্ণ জেলা হিসেবে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে হাওরে তলিয়ে  যাওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কৃষিঋণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল বাম সংগঠনগুলো। গত ৫ এপ্রিল এই দাবিতে মানববন্ধনও করেছে বাসদ(মার্কসবাদী)।