পাহাড়ি ছাত্রনেতাকে সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের পর হত্যাঃ প্রতিবাদে রাঙামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ

ডেস্ক রিপোর্ট: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৪৭ অপরাহ্ন
romel-chakma-death

সেনাবাহিনী কর্তৃক  নির্যাতনের পর  পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ  নান্যাচর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও  এইচএসসি পরীক্ষার্থী রমেল চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে আগামী ২৩ এপ্রিল রবিবার রাঙামাটি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ, ২৫ এপ্রিল মঙ্গগলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের  সম্মুখে অবস্থান ধর্মঘট ও ২৬ এপ্রিল বুধবার নান্যাচর বাজার বয়কটের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) গতকাল  বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল)  এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচী ঘোষণা করে। সিএইচটি নিউজ'এর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।  


 পিসিপি'র বিবৃতির উল্লেখ করে গণমাধ্যমটির খবরে  বলা হয়,  " গত ৫ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার সকালে নান্যাচর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) নান্যাচর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক রমেল চাকমাকে নান্যাচর সেনা জোনের কমান্ডার বাহালুল আলম ও মেজর তানভীরের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে আটক করে নান্যাচর জোনে নিয়ে গিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় দিনভর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এতে রমেল চাকমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাসদস্যরা আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে সেনা নজরদারি ও পুলিশের প্রহরায় দুই সপ্তাহ ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বুধবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রমেল চাকমা মারা যায়।

বিবৃতিতে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- সেনা হেফাজতে নির্যাতনের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রমেল চাকমার মৃত্যুর জন্য দায়ী নান্যাচর জোন কমান্ডার মোঃ বাহলুল আলম, মেজর তানভীরসহ জড়িত সেনাসদস্যদের দৃষ্টান্তদমূলক শাস্তি; ঘটনা তদন্তের জন্য সুষ্ঠু, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পার্বত্য চট্টগ্রামে অন্যায় ধরপাকড়, নির্যাতন ও তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধ করা।

উপরোক্ত কর্মসূচি ও দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পাঁচ নারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, সাজেক নারী সমাজ ও নারী আত্মরক্ষা কমিটি।

এদিকে রমেল চাকমার মৃতুর সংবাদে পার্বত্য চট্টগ্রামের ছাত্র সংগঠনগুলো ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পিসিপি’র উদ্যোগে বিভিন্ন উপজেলায় ছাত্র-ছাত্রীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন এবং ‘রমেল হত্যা প্রতিবাদ কমিটি’ গঠন করা হয় বলে পিসিপি’র কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক রোনাল চাকমা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।"