অর্থমন্ত্রীর মিথ্যাচার ও গণস্বার্থ

খোলা কলাম: পোস্টকার্ড | প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
orthomontri_anisraihan

আনিস রায়হান

''সরকারি ব্যাংক আমরা রেখেছি কেন? এমন প্রশ্ন তুলে নিজেই জবাব দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘একসময় বলা হতো আদর্শ হিসেবে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। যাদের রীতিনীতি, কর্মকাণ্ড, দক্ষতা ইত্যাদি অন্যরা অনুসরণ করবে। এ ধরনের স্বপ্ন যাঁরা দেখেছিলেন, আমি তাঁদের একজন। কিন্তু এ উদ্দেশ্য সফল হয়নি।'' সচিবালয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।(১)

অর্থমন্ত্রীর বরাতে গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি খবর এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, ''আইন অনুযায়ী জঙ্গি অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।''  একই দিনে তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এমন কথা বলেন।(২) দুটো খবরই এসেছে পরদিনের পত্র-পত্রিকায়।

।এক।
অর্থমন্ত্রীর এই দুই বক্তব্যেই বিরাট ফাঁক রয়েছে। সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বা গণমালিকানার প্রতিষ্ঠান গড়ার কারণ হিসেবে তিনি যা বলেছেন, তা একটি দিক মাত্র। এর অপর ও মূল দিকটাই তিনি এড়িয়ে গেছেন। এ ধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ার মূল কারণ ছিল, ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের হাতে যেন কোনো খাত জিম্মি না হয়ে যায় এবং জনগণ স্বল্প ব্যয়ে অধিকতর সেবা পান।

ব্যক্তিমালিকের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যই থাকে মুনাফা। এজন্য কোনো খাতে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের আধিপত্য সৃষ্টি হলে তারা নিজেদের মধ্যে সিন্ডিকেট করে একতরফাভাবে দাম বাড়িয়ে অধিকতর মুনাফার ব্যবস্থা করে। এজন্যই অর্থাৎ বাজারে ভারসাম্য রাখার জন্যই দরকার পড়ে ব্যক্তিখাতকে নিয়ন্ত্রণ করার।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান জনগণের। তাই মুনাফা নয় বরং সেবাই এর লক্ষ্য হয়। সে অনুযায়ী বাজারে তারা যথার্থ দাম প্রচলন করে, যার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে ব্যক্তি উদ্যোক্তারাও চড়া মূল্য আরোপ করতে পারেন না। এমনটা করলে সব ক্রেতা সরকারি প্রতিষ্ঠানেই যাবে।

এই যে বাজার ভারসাম্য টিকিয়ে রাখা এবং জনতাকে কম মূল্যে উচ্চতর সেবা দেয়া- এটাই মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান গড়ার মূল লক্ষ্য ছিল। অর্থমন্ত্রী এই মূল বিষয়টাকে আড়াল করে দ্বিতীয় বিষয়টা সামনে টেনে এনে তার ব্যর্থতার ধোঁয়া তুলছেন। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য গভীরভাবে পড়লে তার উদ্দেশ্যটা বুঝতে বাকি থাকবে না। পূর্বোক্ত ওই প্রতিবেদনেই বলা হয় যে, ''বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিএসবি ও বিএসআরএস হয়েছিল জানিয়ে এ এম এ মুহিত বলেন, উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন গড়ে তোলা। কারণ, বিশ্বব্যাংকের উপলব্ধি ছিল সরকারি অর্থে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন হয় না। এসব প্রতিষ্ঠানকে বিশ্বব্যাংক ঋণ দিত। অনেক উন্নত দেশে এ ধরনের বিনিয়োগ ব্যাংক এখনো আছে।''

মূলত এই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানের ধারণাটি সু-সংহত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সোভিয়েত অর্থনীতির প্রভাবের ফলে। সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতান্ত্রিক রীতিমাফিক সব কিছুই ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত্ব। সেখান থেকে জনগণ নানা ধরণের সুবিধা পেতেন। যেমন, ১৯১৭ সালে লেনিনের নেতৃত্বে কমিউনিস্টরা যখন অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তখন সেদেশে চালের কেজি ছিল ৮০ কোপেক বা পয়সা (১০০ কোপেক = ১ রুবল)। ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়া অবধি চালের দাম একই ছিল। সেদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ত না। ব্যাংক খাতে কোনো সুদের বিষয় ছিল না।(৩)

সোভিয়েতের এই মডেল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়। যে কারণে সাধারণ জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো যেকোনো মূল্যে পূরণের দাবি সর্বত্রই শক্তিশালী হয়। তাই মৌলিক চাহিদায় যেন ঘাটতি না তৈরি হয়, তা দেখতে গিয়ে সোভিয়েতের প্রভাবে বিশ্বের অনেক দেশই মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি দুই ধারাই চালু রাখে। যেন বেসরকারি ধারা একতরফাভাবে না এগোয়, সরকারি ধারার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলে তারা যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

কিন্তু সমাজতন্ত্রের বিপরীতে ছিল পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থা, যার নেতৃত্বে আছে মার্কিন। মুনাফাই এই ধারার প্রধান লক্ষ্য। যেসব দেশ সোভিয়েতের প্রভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, ৯০-এর পর সেসব দেশকে ওইসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ব্যক্তি খাতকে অধিক মুনাফার সুযোগ করে দেয়ার জন্য মার্কিনের নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থা চাপ দিতে থাকে। এই ব্যবস্থার মূল নিয়ামক হচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডব্লিউটিও। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যেও আমরা দেখলাম, বিশ্বব্যাংক টাকা দিয়ে ব্যক্তি মালিকানার বিকাশ ঘটাতে চাইছে। এমনকি যদি আমাদের আদমজী থেকে শুরু করে বড় রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর বন্ধ হওয়ার ইতিহাস দেখেন, তাহলেও এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব স্পষ্ট হবে- তারাই এগুলো বন্ধের জন্য বিভিন্ন জায়গায় টাকা ঢেলেছিল। লক্ষ্য ছিল সমগ্র বাজার ব্যবস্থার বিশ্বায়ন তথা পুঁজিবাদীকরণ।

অর্থমন্ত্রী মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বিশ্বব্যংকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কথা বলেছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হওয়ার অনেক কারণ আছে। সেগুলোকে চিহ্নিত না করে, নিজেদের দুর্নীতি ও বিশ্বব্যাংকের প্রভাবকে আড়ালে রেখে দোষ চাপিয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত্বকরণের পলিসি তথা নীতির ওপর। তার লক্ষ্য ও বিশ্বব্যাংকের লক্ষ্য এখানে এক- রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমান্বয়ে ব্যক্তি মালিকানায় দিয়ে দেয়া, ব্যক্তি মালিকানা ও মুনাফার বিকাশ ঘটানো। এই লক্ষ্য পূরণের জন্যই তার এমন মিথ্যাচার।

।দুই।
দ্বিতীয় খবরটিও খুব তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থমন্ত্রী আইনের দোহাই দিয়ে জঙ্গি অর্থায়নে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচাতে চাইছেন। কারণ নাম প্রকাশ হলে এসব প্রতিষ্ঠানের সুনাম হুমকিতে পড়বে ফলে এগুলোর মুনাফা কমবে। জনগণের বিভিন্ন অংশ থেকে এগুলো বন্ধের দাবি উঠবে, নাম জানা না থাকলেও যা ইতোমধ্যেই উঠেছে। নাম প্রকাশ হলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু এক ইসলামী ব্যাংক ও মুসলিম এইডের তৎপরতাই আমাদের দেখিয়ে দেয় যে, আজকের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জঙ্গি অর্থায়নে গড়ে ওঠা ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব কতখানি। অর্থাৎ বিদ্যমান অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে জঙ্গি অর্থায়নের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরিয়ে ফেলতে গেলে বড় ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যারা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তারা এটা সহজে বুঝতে পারবেন। এমনকি সরকারী দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি উঠলেও সরকারের মন্ত্রীরা কিন্তু অনেকেই ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছেন।

তবে অর্থমন্ত্রী আরও বলেছেন, ''মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুসারে ওই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) নামে একটি পৃথক সংস্থা রয়েছে। কোনো ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জঙ্গি অর্থায়নের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ওই ইউনিট আইন অনুযায়ী তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায়।'' যদিও বাংলাদেশে এই প্রতিষ্ঠানের তৎপরতার কোনো খবর আজো আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। তাদের উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও আজ পর্যন্ত জানা যায়নি।

প্রশ্ন হচ্ছে, অর্থমন্ত্রী কোন আইনের বরাতে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করছেন? যদি কোনো আইনে এরূপ নির্দেশনা থেকেও থাকে, তবে কি তা তথ্য আইন তথা জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সীমিত করে না? আজ জঙ্গি সমস্যা বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের বিভিন্ন অংশের ওপর হামলা পরিচালিত হচ্ছে। যার সন্তান জঙ্গিদের হাতে মারা গেছে, তার পিতার কি জানার অধিকার নেই যে, ওইসব জঙ্গিদের কারা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিল!

এটা আমরা সবাই জানি যে, জঙ্গি তৎপরতা গোপনে সংগঠিত হয়। ফলে অর্থের জোগান ছাড়া তাদের পক্ষে বড় কিছু করাটা কঠিন। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এখনও বিরাট আকার ধারণ না করলেও জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি ঠেকাতে হলে জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধের কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) মন্তব্য করেছে যে, জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশের দুর্বলতা রয়েছে।(৪)
অর্থমন্ত্রী কি তথ্য আড়াল করে এই দুর্বলতা ঢাকতে চাইছেন? কেন জঙ্গি অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিশঠানগুলোর তালিকা প্রকাশ করা যাবে না, আমি নিশ্চিত যে, এ প্রশ্ন উঠলেই কেউ কেউ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়টি টেনে আনবেন। এর যৌক্তিকতা রয়েছে। যেহেতু সৌদি আরবের মতো রাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, আর তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তাই এহেন প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। সৌদিতে আমাদের অনেক শ্রমিক আছেন, যারা দাসের জীবন কাটাতে বাধ্য হন, এমনকি এ নিয়েও ওই একই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কারণ দেখিয়ে সরকার নিশ্চুপ থাকেন।

তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কেরই অপর একটা দিক হচ্ছে, জঙ্গিবাদের বিস্তৃতি। জঙ্গিবাদ বিদেশ থেকে রপ্তানি করেই এ দেশে পাঠানো হয়েছে। জঙ্গিবাদ যেসব দেশে মাথাচাড়া দিয়েছে, সেসব দেশের সামগ্রিক কাঠামোই হুমকির মুখে পড়েছে। সেই দিকটা বিবেচনায় নিলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বরাত দিয়ে এ বিষয়ে চুপ থাকাটা কিছুতেই সমীচীন নয়। কারণ তাতে ক্ষতির পাল্লাটাই বেশি ভারী হয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নির্দেশ করে যে, সরকার সেই পথেই হাঁটছে।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে চাতুর্য ও মিথ্যাচার স্পষ্টভাবে লক্ষ্যণীয়। দুটো প্রশ্নেই তার অবস্থান গণস্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। জনগণের স্বার্থ রক্ষার নিমিত্তে শপথ নিয়ে মন্ত্রী হলেও দেখা যাচ্ছে ব্যক্তি মালিকের মুনাফার পক্ষে এবং জঙ্গিবাদী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন তিনি। জঙ্গি সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যটি সংসদে দেয়া। সেখানে কেউ তার বিরোধিতা করেনি। রাষ্ট্রায়ত্ত্বকরণ সংক্রান্ত প্রথম বক্তব্যেরও এখনও কোনো বিরোধিতা সরকারপক্ষ করেনি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, অর্থমন্ত্রীর এই অবস্থান আদতে সরকারেরই অবস্থান।

বাস্তবে যদি আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করতে চাই, তাহলে দেখা যাবে যে, পূর্বতন ও বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট আমলা-মন্ত্রীদের দুর্বলতা অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী। আবার জঙ্গিবাদের বিস্তৃতির পুরনো প্রেক্ষাপট আমলে নিলেও দেখব তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-আমলারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অনেকেই এর জন্য দায়ী হয়েছেন। বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-আমলারা যেভাবে জঙ্গি অর্থায়নে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, তা আগের ধারাবাহিকতাকেই প্রতিফলিত করছে। বিষয়টা আশঙ্কার। সেই আশঙ্কা কাটিয়ে গণস্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করতে হবে এবং সরকারের বাস্তব কর্মকান্ড ও উদ্দেশ্য জনগণের সামনে খোলাসা করা দরকার। কারণ মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, জনগণই ইতিহাসের চালিকাশক্তি!

[লেখক : সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী]

তথ্যসূত্র
১। ‘সরকারি ব্যাংক রেখেছি কেন?’, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, প্রথম আলো।
২। সংসদে প্রশ্নোত্তর : জঙ্গি অর্থায়নে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশের সুযোগ নেই, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, প্রথম আলো।
৩। [আত্মজৈবনীক সাক্ষাৎকার] ব্যাতিক্রমী চিকিৎসক-শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ঈদুল আযহা সংখ্যা, ২০১৫, সাপ্তাহিক।
৪। জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে দুর্বল বাংলাদেশ, ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫, যুগান্তর অনলাইন।